কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত? একের পর এক পদত্যাগে বাড়ছে চাপ, বৈঠকে বার্তা মমতার
![]() |
| আবারও পদত্যাগ তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতার |
বেঙ্গল ফোকাস: কলকাতা পুরসভাকে কেন্দ্র করে ফের চাপে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক কাউন্সিলর ও পদাধিকারীদের পদত্যাগ ঘিরে দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে অস্বস্তির পরিবেশ। এবার বোরো ১২-এর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুশান্ত ঘোষ। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন অরূপ চক্রবর্তী। যদিও দু’জনের পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এর আগেই বরো ৯-এর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস পদত্যাগ করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত নোটিস নিয়ে দলের তরফে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল, তাঁর ওপর নির্দেশ ছিল পুরসভার যে সব অফিসার অভিষেক ব্যানার্জীর বাড়িতে নোটিশ পাঠাচ্ছেন তাঁদের ওপর কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার। সেখানেই আপত্তি চেয়ারপারসন দেবলীনা বিশ্বাসের, তিনি জানান "পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্ব কোথায় কোথায় অবৈধ বিল্ডিং গড়ে উঠছে টা খতিয়ে দেখা এবং কার বাড়িতে নোটিশ যাবে সেসব দেখার, যেটা তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না," সেই কারণেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেছিলেন। এরপর আরও দু’জনের পদত্যাগে স্বাভাবিকভাবেই কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের ভিত নড়বড়ে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভাতেও একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসছে। অনেকেই আবার দলের বিরুদ্ধে সরবও হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সোমবার কালীঘাটের বাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে হওয়া ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মদন মিত্র-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত সংগঠনের ভাঙন রোখা, কাউন্সিলরদের মনোবল ধরে রাখা এবং আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দলের তরফে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ আইনি কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি জানান যাতে কেও দলত্যাগ না করে তা সুনিশ্চিত করতে হবে প্রথম সারির নেতাদের, তাতে যত মিটিং করার দরকার পড়ে তা যেন করা হয়। এমনকি যদি দরকার পড়ে তাহলে ধর্না সভার ও আয়োজন করা যেতে পারে, এতেই একাংশের সন্দেহ ধর্নামঞ্চ- এ কতজন উপস্থিত থাকবেন। আর তাই বৈঠকের শেষে আবেগঘন বার্তাও দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “আমি কাউকে জোর করে আটকে রাখব না। যাঁদের ইচ্ছে তাঁরা যেতে পারেন। কিন্তু যাঁরা দলের সঙ্গে থাকবেন, তাঁদের নিয়েই আমি আবার নতুন করে দল গড়ব।” তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে কোনও অপরাধ না ঘটলেও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতির কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। একের পর এক পদত্যাগ এবং দলত্যাগের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাপ বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।
কলকাতা পুরসভা, তৃণমূল কংগ্রেস, টিএমসি সংকট, কাউন্সিলর পদত্যাগ, বরো চেয়ারম্যান ইস্তফা, সুশান্ত ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা পুরসভা খবর, তৃণমূলের ভাঙন, কালীঘাট বৈঠক, টিএমসি লিগ্যাল কমিটি, পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি, পুরসভা দুর্নীতি তৃণমূল কাউন্সিলর, Kolkata Municipal Corporation, TMC crisis, TMC resignation news, Kolkata civic body politics, TMC councillor resignation, Borough chairman resignation, Mamata Banerjee meeting, TMC internal conflict, Kolkata political news, West Bengal politics, TMC legal committee, KMC latest news, Trinamool Congress controversy, Political turmoil in KMC, Kolkata corporation news
